246777

ট্রেনে গান গাওয়া ছেলেটি এখন জাতীয় পুরস্কারজয়ী নায়ক

অনলাইন সংস্করণঃ- জন্মের পরে বাবা মা নাম রেখেছিলেন ‘নিশান্ত’। কিন্তু ছেলের তিন বছর বয়সে। নতুন নাম রাখা হয় ‘আয়ুষ্মান’। পরিবারে অভিনয়ের শিকড় না থাকলেও নিজেকে অভিনেতা হিসেবে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। আয়ুষ্মান সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যিনি অভিনয়ের পাশাপাশি ভালবাসেন বই পড়তে, কবিতা লিখতে, গান করতে। হিন্দিতে নিয়মিত লেখেন নিজের ব্লগে। বহু নেটিজেনই তার ব্লগের গুণমুগ্ধ পাঠক।কিন্তু তার পথচলা ছিল খুব কঠিন।

আয়ুষ্মানের জন্ম চণ্ডীগড়ে, ১৯৮৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। তার বাবা পি খুরানা একজন জ্যোতিষী। মা অনিতা মায়ানমারের মেয়ে, গৃহবধূ। সেন্ট জনস হাইস্কুলের পরে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে আয়ুষ্মানের পড়াশোনা ডিএভি কলেজে। এরপর পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। চার বছর বয়সে ‘তেজাব’ এ মাধুরী দীক্ষিতকে দেখেই নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন আয়ুষ্মান।

অভিনয়ের ইচ্ছা বাস্তবে পরিণত হল কলেজে, থিয়েটার দিয়ে। সেইসঙ্গে টেলিভিশনে রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়া। ২০০৪ সালে রোডিজ ২-এ জয়ী ২০ বছর বয়সে। প্রথম চাকরি দিল্লিতে, রেডিও জকি হিসেবে। এরপর বিভিন্ন চ্যানেলে রিয়েলিটি শো সঞ্চালনা করেছেন। ২০১২ সালে সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ দিয়ে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে আয়ুষ্মানের। সেই ছবিতে তিনি গানও গেয়েছিলেন।

প্রথম ছবিতেই পেয়ে যান জোড়া ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। সেরা অভিনেতা ও সেরা প্লে ব্যাক গায়ক। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একটু অন্য রকম ছবিতে অভিনয় করতে ভালবাসেন। ‘বরেলী কি বরফি’, ‘দম লাগা কে হাইসা’, ‘বধাই হো’, ‘অন্ধাধুন’ এবং ‘আর্টিকল ১৫’ আয়ুষ্মানের সেই ‘অন্য রকম’ ধারার ছবিতে অভিনয়কেই জোরালো ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তার ছবি সামাজিক বার্তাকেও পৌঁছে দেয়।

২০০৮ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা তাহিরা কাশ্যপকে আয়ুষ্মান বিয়ে করেন। তাদের আলাপ হয়েছিল ক্লাস টুয়েলভে; ফিজিক্স কোচিং ক্লাসে। আয়ুষ্মানের নাম প্রথমে তাহিরা জানতেন ‘অভিষেক’ বলে। এই দম্পতির ছেলে বীর্যবীরের জন্ম ২০১২ সালে। তার ২ বছর পর সংসারে নতুন অতিথি হয়ে আসে মেয়ে বরুষ্কা। আয়ুষ্মানের ভাই অপারশক্তিও একজন রেডিয়ো জকি। তিনি অভিনয় করেছিলেন আমির খানের ‘দঙ্গল’-এ।

২০১৮-এ আয়ুষ্মান-তাহিরার দাম্পত্যে অপ্রত্যাশিত আঘাত। ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে তাহিরার। আয়ুষ্মান পরে বলেছেন, একথা জানার পরে বেশ কয়েক দিন বিনিদ্র রজনী কাটান তিনি। তাহিরার মানসিক শক্তিই তাকে প্রেরণা দিয়েছে লড়াই শুরু করার। সে সময় সকালে শুটিং, সিনেমার প্রচারে ব্যস্ত থাকতেন আয়ুষ্মান। রাতে হাসপাতালে যেতেন স্ত্রীর কাছে। তাহিরাও জানিয়েছেন, আয়ুষ্মানকে ছাড়া তিনি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এগোতে পারতেন না।

কেমোথেরাপির পরে এখন রোগমুক্তির পথে তাহিরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি শেয়ার করেছিলেন কেমোথেরাপির পরে তার কেশহীন মাথার ছবি। তবে তাদের সংসার এক সময় প্রায় ভেঙে যাচ্ছিল। কারণ ‘ভিকি ডোনার’ এ স্বামীকে চুমু খেতে দেখে মেনে নিতে পারেননি তাহিরা। আরও নানা কারণে চেয়েছিলেন ডিভোর্স করতে। কিন্তু সম্পর্ক ধরে রেখেছেন আয়ুষ্মানই। প্রথম দিকে আয়ুষ্মানের বিপুল মহিলা ফ্যান ফলোয়িং দেখে রেগে যেতেন, বিরক্ত হতেন তাহিরা। এখন পাল্টে ফেলেছেন নিজেকে। বুঝেছেন, এ সবই তারকা-জীবনের অঙ্গ।

কলেজে পড়ার সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে দিল্লি-মুম্বই দূরপাল্লার ট্রেনের কামরায় গান গাইতেন আয়ুষ্মান। তাদের পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে টাকা দিতেন যাত্রীরা। এক সাক্ষাৎকারে আয়ুষ্মান জানিয়েছেন, একবার এত টাকা জমেছিল, তারা সবাই মিলে গোয়া বেড়াতে চলে গিয়েছিলেন। অতীতের কথা মনে রেখে নিজেকে ‘ট্রেন সিঙ্গার’-ও বলতে ভালবাসেন জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে যুগ্ম ভাবে সেরা নায়ক আয়ুষ্মান খুরানা।

 

সূত্র কালেরকণ্ঠঃ

পাঠকের মতামত

Comments are closed.