246217

ডেঙ্গু রোগী পালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল থেকে

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুপুর সাড়ে ১২টা। রোগীদের টিকিট কাউন্টারে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ। অনেকে আবার অসুস্থ রোগীকে নিয়ে ছুটছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। কেউ কেউ হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে হাসি মুখে বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন। এসব কাজে মোটামুটি সবার ব্যস্ততাই চোখে পড়ছে।

কিন্তু হঠাৎ চোখে পড়ে হাসপাতালের মূল গেটের দরজার সামনের বারান্দায় পড়ে আছেন এক যুবক। তার পরনে ছিল শুধুই একটি লুঙ্গি। তবে তার হাতে লাগানো রয়েছে একটি ক্যানলা। তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো তিনি একজন রোগী। রোগী হলে হাসপাতালের বাইরে এভাবে পড়ে আছেন কেন? দেখা গেল, সেই যুবকের পাশেই হাত ধরে বসে আছেন বয়স্ক এক নারী। কাছে গিয়ে জানা গেল ওই নারী তার মা।

ওই রোগীর মা আবিয়া বেগম জানান, এই রোগী তার ছেলে। তার নাম আলেকুজ্জামান (২৬)। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।

ছেলে আলেকুজ্জামান পেশায় একজন গাড়ি চালক। ঢাকার অভ্যন্তরে চলাচলকারী লোকাল বাস চালান তিনি। তবে গত ৭ দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

ওই ডেঙ্গু রোগীর মা আবিয়া বেগম আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তার ছেলের মাথা ব্যথা কমছিল না। ডেঙ্গু জ্বরের কারণে সব সময় তীব্র মাথা ব্যথা নিয়ে দিন রাত পার করছিলেন রোগী আলেকুজ্জামান। এই কয় দিনে তার জ্বর কমলেও মাথা ব্যথা কমেনি। তাই গতকাল রাত থেকে বার বার বলছে এই হাসপাতাল থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে। মাথা ব্যথার জন্য চিৎকার করে করে কাঁদেন তার ছেলে।

অন্য বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য নেই বিধবা এই মায়ের। আর নিয়েও বা লাভ কি সব হাসপাতালেই তো এমন হাজারো রোগী আছে। সে কারণে ছেলেকে বুঝিয়ে এখানেই চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন তারা।

বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে পুরুষ ওয়ার্ডের নিজের বিছানা ছেড়ে উঠে দৌঁড় দেয় ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলে। আর পেছনে পেছনে তার মা ও স্ত্রী। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে টিকিট কাউন্টারের সামনে দিয়ে পালানোর সময় মাথা ঘুরে যায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত আলেকুজ্জামানের। মেঝেতেই শুয়ে পড়েন তিনি। আর পাশে বসে পড়েন মা। মিনিট পাঁচেক পরে একটু স্বাভাবিক হলে মায়ের পায়ে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত আলেকুজ্জামান তার মাকে বলছিল, ‘মা বাড়িতে চল। এখানে থাকুম না।’

কিন্তু মা বারবার তাকে বুঝিয়ে বেডে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে স্বেচ্ছায় ছুটির আবেদন জমা দিয়ে হাসপাতালের গেটে অপেক্ষা করছেন তারা।

ডেঙ্গু আক্রান্ত আলেকুজ্জামানের স্ত্রী আফরোজা বলেন, ‘আমার স্বামী ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। এখন সে সুস্থ না হয়েই ব্যথার চোটে হাসপাতাল থেকে পালাচ্ছে। কি করমু। ভেতরে তার যে বিছানা ছিল সেটা অন্য রোগী নিয়া নিছে। তাই বাড়ি যাচ্ছি।’ দৈনিক আমাদের সময়

পাঠকের মতামত

Comments are closed.