245287

প্রতারণাই নারী-পুরুষকে নতুন সম্পর্কে বাধ্য করে

রিবাতুল ইসলাম : নারী- রুষের সম্পর্ক নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা বলছেন, নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার পেছনে সঙ্গীরপ্রতি প্রতারনা ও তার আড়ালে নতুন যৌন সঙ্গী খুঁজে নেয়ার এক তাড়না কাজ করে। সিডনিতে নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়েকাজ করেন এমন এক বিশেষজ্ঞ ড. লার্ভি বলছেন, নারী-পুরুষের মধ্যে একে অপরের সাথে প্রতারণার মূল কারণ হচ্ছে যৌনতায় সততার অভাব। এ ধরনের যৌনতায় অভ্যস্ত ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে সঙ্গী বদল করেন এবং কোনো  পরিস্থিতিতেই সম্পর্কে তল খুঁজে পান না। যৌনতার কারণেই নতুন নতুন সঙ্গী খুঁজতে থাকেন তারা ধারাবাহিকভাবে।

নারীদের এক্ষেত্রে তারাযখন মনে করেন সঙ্গী তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন তখন আবেগবশত বা অপমানিত হয়ে সেও নতুন সঙ্গীর দিকে ঝুঁকেপড়েন। এবং আগের সঙ্গীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। এরফলে ব্যক্তিগত জীবনে উভয়েই হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েন। কেউ বা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এমনকি পেশাগত জীবনে ক্ষতির মুখে পড়েন।

ড. লার্ভি গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, তীব্র জৈবিক প্রবণতার জন্যে নারী কিংবা পুরুষ নিত্যনতুন সঙ্গী খুঁজতে প্রবৃত্ত হন। শক্তিশালী টেস্টোরোন ছাড়াও পারস্পরিক সহানুভূতির অভাবে সঙ্গীরা একে অপরের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকেন। হতাশ কিংবাঅন্যের প্রয়োজনের তুলনায় নিজের প্রয়োজনকে সামনে রাখার ফলেই তারা নিত্যনতুন সঙ্গী খুঁজে ফিরতে পিছপা হন না।এধরনের   প্রবৃত্তি তাদেরকে এক গড্ডালিকা প্রবাহে নিয়ে যায়। তবে শক্তিশালী ধর্মীয় অনুভূতি এবং তাদের বিশ্বাস অনেকসময় মানুষকে এধরনের প্রবৃত্তি অনুসরণে বাধার সৃষ্টি করে।

একই সঙ্গে ড. লার্ভি পারস্পরিক যোগাযোগের অভাব, বিচ্ছিন্নতা, সঙ্গীর প্রতি বিভিন্ন কারণে সন্তষ্টির অভাব, কার্যকর যৌনসম্পর্কের অভাব এধরনের বিশ্বাস ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন নারী যদি মনে করেন সে তার সঙ্গীর কাছে যথেষ্ট মনোযোগ পাচ্ছেন না তাহলে সে নতুন সঙ্গী খুঁজতে শুরু করে।  এজন্যে শিক্ষার অভাব বিশ্বাস রাখার মত প্রয়োজনীয় আস্থার সংকটকেও প্রতারণার আরেক কারণ বলে মনে করেন ড. লার্ভি। ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ধরনের ঘাটতিও অনেককে এধরনের প্রতারণায় ঠেলে দেয়।

রিলেশনশিপ গুরু হিসেবে পরিচিত ড. লার্ভি বলেন, অনেক সময় কাজের বা অফিসের পরিবেশও নারী-পুরুষকে এধরনের সম্পর্কচ্ছেদ ও সম্পর্ক তৈরিতে উস্কানি দিয়ে থাকে। কারণ অফিস আদালতে প্রচুর আকর্ষণীয় মানুষ ও তাদের সঙ্গে মেলামেশাও কাজ নিয়ে গভীর কথোপকথনের মধ্যে সর্ম্পক্ত হওয়ার মধ্যেও সম্পর্কে ছন্দপতন ঘটে যায়।

কারণ পেশাগত কাজেরমধ্যেও একধরনের প্রলোভনের বৃহত্তর এক পরিধি থাকে, অপ্রতিরোধ্য কিছু নারী কিংবা পুরুষ শেষ পর্যন্ত একে অপরকেঘায়েল করে বসে। শহরের চেয়ে গ্রামে বরং এধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয় কম। বরং বলা চলে শহরাঞ্চলের বিস্তারের সাথেপাল্লা দিয়ে বাড়ছে এধরনের অসম সম্পর্ক।

পাঠকের মতামত

Comments are closed.